হাই ব্লাড সুগার? ডায়েট শাসনে নিয়ন্ত্রণে থাকুক ডায়াবিটিস! মিলিয়ে নিন…

সুগার বেড়েছে? ডায়েট করে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখুন ডায়াবিটিস!

ডায়াবেটিসে ভুগছেন? কিংবা রক্তে শর্করার মাত্রা একেবারে বর্ডার লাইনে রয়েছে? সে ক্ষেত্রেও খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারলে নাছোড় এই রোগটিকে দূরে ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, আর মাত্রারিক্ত দুশ্চিন্তা করলে এই রোগ আপনার দরজায় কড়া নাড়তে পারে খুব শিঘ্রই। তাই, এখনকার দিনে খোঁজ করলে দেখা যাবে আজকের দিনে গৃহস্থ বাড়ির সদস্যদের মধ্যে কারোর না কারোর ব্লাড সুগার বা ডায়াবিটিস আছেই। আর একবার এই রোগ ধরলে, আর নিষ্কৃতি নেই। রোগীকে থাকতে হবে কঠোর নিয়মের মধ্যে। খাওয়া-দাওয়ার নিষেধাজ্ঞা না মানলে, সময় মতো ওষুধপত্র না খেলে শুরু হবে জটিল থেকে জটিলতর শারীরিক সমস্যা। তার ওপর এই রোগ আবার বংশানুক্রমিক। পরিবারের কারোর ডায়াবিটিস থাকলে আপনার ক্ষেত্রে এই রোগ হবার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।  

দুশ্চিন্তা কমানো সহজ নয়। তাই, এক্ষেত্রে রোগ মোকাবিলায় একমাত্র করনীয় হল চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কড়া ডায়েট মেনে চলা। কিভাবে করবেন এই ডায়েট, জেনে নিন –

দিন শুরু করুন এইভাবে –

সকালে ঘুম থেকে উঠে চা বা কফির পরিবর্তে খান এক গ্লাস হালকা গরম জল। অথবা, খেতে পারেন মেথি বা জিরে বা আমলা ভেজানো জলও। এক্ষেত্রে, আগেরদিন রাতে মেথির বীজ বা জিরে গুঁড়ো বা গোটা জিরে এক গ্লাস জলে ভিজিয়ে রাখবেন, পরেরদিন সকালে উঠে জলটা ছেঁকে খেতে হবে।

এরপরে, খান একমুঠো ভেজানো বাদাম। যদি আমন্ড বাদাম খেতে চান তবে তা খাওয়ার অন্তত ১২ ঘণ্টা আগে ভেজানো উচিত। অন্য বাদাম ৮ ঘন্টা আগে ভেজালেই চলবে। এগুলি, শরীরের রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, হজমশক্তি বাড়ায়। 

ব্রেকফাস্টে খান –

প্রাতঃরাশে খান ভারী খাবার কারণ এটি সারাদিন আপনার দেহে শক্তি সরবরাহ করবে। ওটস, ওটমিল, স্মুদি খেতে পারেন, আর সাথে খান একটি বড় বাটি ভর্তি তাজা ফল। চিকেন স্যালাড বা একটি ডিম সিদ্ধও এর বিকল্প হতে পারে। প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে দিনে ১ থেকে ২ গ্লাস দুধ খাবার চেষ্টা করুন। দুধ ভাল না লাগলে, দই বা পনিরের কোনো খাবারও খেতে পারেন।

আপনি যদি নিরামিষভোজী হন তবে, গমের রুটি বা রাগি ইডলি, ধোসা বা চিলা খেতে পারেন। পোহা বা উপমাও এর স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।

হঠাৎ খিদে পেলে খান –

দুপুরে ভরপেট খাবার আগে বা পরে খিদে পেতে পারে। এর জন্য সাথে রাখুব এমন কিছু স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স যাতে কম গ্লাইসেমিক সূচক রয়েছে। এক্ষেত্রে, বাদাম বা ছোলা ভাজা খুব ভাল স্ন্যাক্স হতে পারে যা আপনার খিদেভাব মেটাবে সহজেই।

মধ্যাহ্নভোজনে খান –

দুপুরের খাবারে এক বাটি ডাল এবং সাথে পুষ্টিকর শাকসবজির তরকারি  থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাথে খান ভাত বা রুটি। সুগার রোগীদের কখনো পুরোপুরি ভাত বা রুটি  খাওয়া  বন্ধ করা উচিত নয়। চাইলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভাতের পরিমাণ কমাতে পারেন। এক্ষেত্রে, কুইনোয়া বা ব্রাউন রাইস খেতে পারেন। আর রুটি বা চাপাটি খেলে, যব বা জোয়ার বা রাগির ময়দা ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। সাথে এক বাটি টক দই বা রায়তা খেতে পারেন। বাটার মিল্ক অথবা দই খেলে তাতে চিনি না দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। আমিষভোজীরা সামুদ্রিক মাছ বা মাংসের স্ট্যু খেতে পারেন।  

সন্ধ্যের সময় খান –

সন্ধে বেলা অনেকেরই খিদে পেয়ে যায়। এই সময় চিনি ছাড়া চা খেতে পারেন। লিকার চা খাওয়াই ভাল তবে, দুধ-চা খেলে তা কম দুধ দিয়ে খান। মিষ্টি ছাড়া চা খেতে অসুবিধা হলে সামান্য গুড় মেশাতে পারেন চায়ে।  চায়ের সাথে টা হিসেবে ভাজা ছোলা খেতে পারেন, ভুলেও চিপ্স বা বিস্কুট খেতে যাবেন না। যদিও এখন সুগার ফ্রি বিস্কুট পাওয়া যায়, সেগুলো খেতে পারেন। চা না খেলে এই সময় এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন।

রাতে খান –

রাতের খাবারে রাখুন স্বল্প ফ্যাটযুক্ত কিছু খাবার যেমন – গ্রিলড পনির বা ফিশ বা চিকেন অথবা সয়াবিনের কোনো পদ। স্যুপ বা স্যালাড দিয়ে পেট ভরাতে পারেন রাতের বেলা।

সাধারণত এক জন প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবিটিক রোগীর সারাদিনে ১২০০-১৬০০ কিলো ক্যালোরি যুক্ত খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। যদিও এই ক্যালোরির মাত্রা নির্ধারণ করা হয় রোগীর শরীরের গঠন, লিঙ্গ, বয়স, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং তার জীবনযাত্রার ধরণ বিবাচনা করে।  

ডায়াবিটিস রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধপত্র যা খান এবং যদি ইনসুলিন নেন তা সব নিয়ম মত চলতেই থাকবে। তবে উপরে উল্লিখিত ডায়েট চার্ট মেনে খাওয়া-দাওয়া করলে রোগী অনেকটাই সুস্থ থাকবেন। একমাত্র নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসই পারবে আপনার সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে। আর, রক্তে শর্করার মাত্রা কম থাকলে তবেই স্থূলত্ব, উচ্চ রক্তচাপ, গ্লুকোমার মত জটিল চোখের রোগ, হাত-পায়ে ব্যথা এমনকি স্ট্রোকের মত প্রাণঘাতী স্বাস্থ্য সমস্যাকেও প্রতিরোধ করা যেতে পারে। ডায়াটিশিয়ানদের মতে, জীবনধারাতে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে আর কড়া ডায়েট শাসনে থেকে টাইপ -২ ডায়াবেটিসকেও অনেকাংশে এড়ানো যায়।

Related posts