জেনে নিন, ব্ল্যাক কফির স্বাস্থ্য উপকারিতা

কফির জন্য বার বার মন আনচান করে? জেনে নিন, ব্ল্যাক কফির স্বাস্থ্য উপকারিতা 

অফিসে বা বাড়িতে বসে কাজের ফাঁকে কফির কাপে চুমুক দেন না এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা প্রায়। তাইতো টিভিতে, কাগজে বিজ্ঞাপনে ইনস্ট্যান্ট কফি পাউডারের এত রমরমা। এক কাপ গরম জলে এক চামচ কফি পাউডার মেশালেই নিমেষের মধ্যে তৈরী হয়ে যাবে ধোঁয়া ওঠা ব্ল্যাক কফি। যার কয়েক চুমুকই যথেষ্ট সারাদিনের একঘেয়েমি আর ক্লান্তি দূর করে মনমেজাজ চনমনে করে দেবার জন্য।

সারাদিনে এক বা দু কাপ কালো কফি শুধু সারদিন আপনাকে তরতাজা প্রাণবন্তই রাখবে না, কফির দানায় দানায় লুকিয়ে রয়েছে হাজারো স্বাস্থ্যগুণ। আজকেই এই নিবন্ধে আপনাকে জানাব ব্ল্যাক কফির সেইসব সব উপকারী গুণ সম্পর্কে। আরোও জানাব, কখন কফি খেলে বেশী উপকার পাবেন আর কখন খেলে উপকারের থেকে ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকবে বেশী।

চলুন এবার একে একে জেনে নেওয়া যাক, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং বিভিন্ন পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ কালো কফি শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে আপনাকে কীভাবে সাহায্য করবে –

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের মনে রাখার ক্ষমতা কমতে থাকে। প্রতিদিন সকালে জল খাবারের পর এক কাপ ‘ব্ল্যাক কফি’ খেলে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ঠিক থাকে, স্মৃতিশক্তি ও বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত ব্ল্যাক কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে স্মৃতিশক্তি লোপ পাবার মত সমস্যা অর্থাৎ পারকিসনসন এবং আলৎঝাইমারস রোগের ঝুঁকি কমে।

মানসিক বিকাশে সাহায্য করে 

ব্ল্যাক কফিতে থাকা ক্যাফাইন নার্ভকে তথা মস্তিষ্ককের সামগ্রিক কার্যকলাপ সচল থাকতে সাহায্য করে। আগেই বলেছি স্মৃতিশক্তি বাড়ায় সাথে বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়। ক্যাফেইন থাকায় কফি মুড ভালো করে, ক্লান্তি দূর করে কাজের এনার্জি বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্ল্যাক কফি আত্মহত্যার প্রবণতা কম করে এবং মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে।

মাইগ্রেনের ব্যথা কম করে

ক্যাফাইনকে এক প্রকার মনস্তাত্ত্বিক উদ্দীপক তাইতো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ যেরকমই হোক না কেন কফি কাপে চুমুক দিলেই অমনোযোগীতা কাটিয়ে আবার কাজে মন দিতে পারেন। এমনকি, খেয়াল করলে দেখবেন মাইগ্রেনের জন্য বা অন্য কিছু থেকে হওয়া মাথা ব্যথাও অনেক সময় চলে যায় বা বলা ভাল কম হয়ে যায় কফির কাপে কয়েক চুমুক দেওয়া মাত্রই। কালো কফি অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে এবং দৃষ্টিশক্তির উন্নত করতেও সহায়তা করে।

হৃদরোগ প্রতিরোধ করে

ব্ল্যাক কফি খাবার পর অস্থায়িভাবে রক্তচাপ বাড়ালেও সময়ের সাথে সাথে আবার তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসে। নিয়মিত দু-এক কাপ ব্ল্যাক কফি খেলে প্রদাহের মাত্রা কম হয় ফলে স্ট্রোকসহ, জটিল থেকে জটিলতর বিভিন্ন হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে

যারা নিয়মিত ব্ল্যাক কফি খান, তাদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা সাধারণ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে এমনকি ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে ব্ল্যাক কফি।

বাত প্রতিরোধ করে এবং বাতের ব্যথা কমায়

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ব্ল্যাক কফি খান তাদের মধ্যে বাত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। কফির শক্তিশালী অ্যান্টিওক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের ইউরিক অ্যাসিড ও ইন্সুলিনের মাত্রা কমিয়ে বাতের মত রোগের ঝুঁকি কমায়। যদি বাত থাকে, তবে তাদের বাতের ব্যথা বা প্রদাহ ও আনুষঙ্গিক উপসর্গ কম করে। 

ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমায়

কালো কফি স্কিন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাকে অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং প্রদাহ কমায়। এছাড়াও, ব্ল্যাক কফিতে রয়েছে ভিটামিন বি-টু, বি-থ্রি, বি-ফাইভ, ম্যাগনেসিয়াম পটাশিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ এর মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব ভিটামিন ও খনিজ উপাদান।

লিভার সুস্থ রাখে এবং এর কার্যকারীতা বৃদ্ধি করে

কফি লিভারের মধ্যে জমা ক্ষতিকর এনজাইম বা উৎসেচক পদার্থের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, ক্যান্সার বা হেপাটাইটিসের মত জটিল রোগের কারণে বা অতিরিক্ত মেদ জমার কারণে বা মাত্রারিক্ত মদ্যপানের ফলে লিভারের কোনো ক্ষতি হয়ে গিয়ে থাকলে, ব্ল্যাক কফি লিভারের কার্যকারীতা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে এবং লিভারের নানারকমের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে। 

ওজন কমায়

কফি খাবার পরে বাড়ে বাড়ে খিদে পাবার প্রবণতাও কমে যায় ফলে বারবার খাবার প্রয়োজন পড়ে না ও ওজন বৃদ্ধির সমস্যা কমে। এ জন্যই অনেক ডায়েটেশিয়ানরা ওজন কমানোর ডায়েট চার্টে চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি খাবার কথা উল্লেখ করেন। তাছাড়া, ব্যায়াম করার আধা ঘন্টা আগে এক কাপ ব্ল্যাক কফি খেলে দেহে বিপাকের পরিমাণ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায় যার কারনে ওজন এবং পেটে জমে থাকা চর্বি কমে খুব তাড়াতাড়ি।

ব্ল্যাক কফির সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, এটি আপনার শারীরিক কর্মক্ষমতা উন্নত করে দেহকে শতভাগ অ্যাক্টিভ থাকতে সাহায্য করবে। এই কারণেই, জিম বা যোগাভ্যাসের প্রশিক্ষকরা শারীরিক কসরত শুরু করার আগে ব্ল্যাক কফি খাবার পরামর্শ দেন। কিন্তু খালি পেটে ব্ল্যাক কফি খেলে তা শরীরের পক্ষে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কফি খাওয়ার আদর্শ সময় হল সকাল ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত- জলখাবারের সাথে বা পরে, যদিও চাইলে এরপরে আরো কয়েক কাপ কফি খেতেই পারেন। তবে রাতের খাবারের পর কফি না খাওয়াই ভাল, এতে ঘুমের ব্যঘাত ঘটতে পারে।

Related posts