টেলিগ্রাম অ্যাপটি কি কি বৈশিষ্ট্যের জন্য জনপ্রিয়তার শীর্ষস্থান দখল করেছে

যে সমস্ত মেসেজিং অ্যাপগুলির মাধ্যমে মানুষের সাথে মানুষের আদান-প্রদান ঘটে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো টেলিগ্রাম অ্যাপ। এই অ্যাপটি হল ক্লাউড ভিত্তিক যুগপৎ ম্যাসেজিং ও ভয়েস ওভার আইপি সেবা। উইন্ডোজ, অ্যান্ড্রয়েড, লিনাক্স প্রভৃতি অপারেটিং সিস্টেমের জন্য এই অ্যাপটি উপলব্ধ রয়েছে।রাশিয়ান উদ্যোক্তা নিকোলাই দুরোভ ও পাভেল দুরোভ ২০১৩ সালের মার্চ মাসে এই অ্যাপটি তৈরি করেন। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয় বিশ্বব্যাপী এই টেলিগ্রামের ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন।

টেলিগ্রামের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যার জন্য এটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে গেছে। আপনারা হয়তো এখনো এই বিষয়ে অবগত নন। আমার এই লিখাটি পড়ে আপনারা নিশ্চয়ই টেলিগ্রামের এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।

মেসেজ এডিটিং

টেলিগ্রাম ছাড়া আর কোনো মেসেজিং অ্যাপে এই ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় না। মেসেজের আদান-প্রদান করার সময় অনেকেই তার অনিচ্ছা বসতো ভুল কিছু শব্দ লিখে ফেলেন। মেসেজ পাঠানোর পর সেটিকে আর এডিট করা যায় না। কিন্তু টেলিগ্রাম অ্যাপে এই সুবিধা রয়েছে। টেলিগ্রামে মাধ্যমে যদি ভুল শব্দের মেসেজ অন্য কাউকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাহলে মেসেজ পাঠানোর পরও মেসেজটি এডিট করার সুবিধা থাকছে।

লাস্ট সিন হাইট করার অপশন

অনেক মানুষই যখন বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করেন তখন তারা চান তাদের পরিচিত মানুষের থেকে অনলাইনে অ্যাক্টিভ হওয়ার সময়টাকে হাইড করে রাখার জন্য। টেলিগ্রাম একটি প্রাইভেসি এবং সিকিউরিটি ফোকাসড অ্যাপ হবার কারণে এই ধরনের সুবিধা রয়েছে এই অ্যাপে। আপনি যদি চান আপনার কনন্ট্যাক্ট লিস্টের সবার থেকে আপনার অনলাইনে থাকার সময় কে হাইড করতে তা হলেও এই সুবিধাটি এই অ্যাপে উপলব্ধ আছে। আবার আপনার কনট্যাক্ট লিস্টে থাকা বিশেষ কারোর থেকে যদি আপনি আপনার অনলাইনে থাকার সময়টিকে লুকাতে চান সেই সুবিধাও উপলব্ধ রয়েছে এই অ্যাপে।

১.৫ জিপি পর্যন্ত ফাইল শেয়ারিং এর সুবিধা

টেলিগ্রাম মেসেঞ্জার হল একটি ভালো ফাইল শেয়ারিং টুল। ফেসবুকের মত অ্যাপে ২৫ এর থেকে বেশি ফাইল আপলোড করা যায় না সেখানে টেলিগ্রাম অ্যাপে ১.৫ জিবি সাইজের ফাইল শেয়ার করা যায়। তাই টেলিগ্রামের সাহায্যে এইচডি কোয়ালিটির একটি মুভিও সাথে শেয়ার করা যেতে পারে।

স্পিড এবং রিলায়েবলিটি

অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপ এর থেকে এই অ্যাপের টেক্সট ডেলিভারি স্পিড। এই অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত গতিতে চ্যাট করা যায়।ওয়াইফাই, ফোরজি, থ্রিজি, টুজি সবধরনের নেটওয়ার্কেই টেলিগ্রামের মেসেজ ডেলিভারি স্পিড দ্রুত গতিতেই পাওয়া যায়।

টেলিগ্রাম গ্রুপস ও চ্যানেলস

অন্যান্য মেসেঞ্জার গুলিতেও গ্রুপ চ্যাট কোটার সুবিধা আছে, তবে টেলিগ্রামে গ্রুপ চ্যাটিং এর ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু সুবিধা আছে সেগুলি হল ইউজার ভেরিফিকেশন, পাবলিক নোটস এবং গ্রুপে বট অ্যাড করে বিভিন্ন টাস্ক অটোমেশন করবার সুযোগ। এছাড়াও টেলিগ্রামে আলাদা চ্যানেল তৈরি করবার সুবিধাও রয়েছে।

পরিশেষে বলতে পারি সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপের কর্তৃপক্ষ হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিষয়ে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ এখন হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিদ্বন্দী এই টেলিগ্রাম অ্যাপের দিকে ঝুঁকেছে।

Related posts