Weight Loss: কলা খেলে কি সত্যিই ওজন কমে? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ…

কলা কি সত্যিই ওজন কমায়? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মত…

ওজন কমাতে চান? আপনার রোজকার ডায়েটে অবশ্যই কলা যোগ করুন। বিশেষ করে যাদের শরীর ফুলে-ফেঁপে উঠছে বা যারা পেটের মেদ কমাতে চান, তারা রোজ কলা খাবার চেষ্টা করুন। কলায় কোলিন নামক এক ধরনের উপাদান আছে আর আছে সব ধরণের ভিটামিন বি, যা দেহের ইতিউতি চর্বি জমতে বাধা দেয়।

পাকা কলা বেশ মিষ্টি, তাই অনেকেই ভাবেন কলায় থাকা ক্যালোরি বুঝি তাদের ওজন বাড়িয়ে দেবে। এতা সত্যি নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কলা বিভিন্ন উপায়ে ওজন হ্রাসে সাহায্য করে। সাধারণত, খাবার ঠিক মত হজম না হলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। আর কলা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। আবার, আপনি জাঙ্ক ফুডের অভ্যাস ছাড়তে কলা খেতে পারেন। ধরুন, সন্ধ্যেবেলা বা দুপুরে খাবার পরে আমাদের মনটা যখন কিছু খাই খাই করে তখন একটা কলা খেতে পারেন, এতে খিদে মিটবে, আর সাথে পুষ্টিও মিলবে। কলা খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয় তাই খাবার খাওয়ার আগ্রহও কমে, এতে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে।

তবে, কলা আপনাকে ওজন হ্রাসে তখনই সাহায্য করবে যখন আপনি সঠিকভাবে তা খাবেন। নিয়মের বাইরে গিয়ে বা অতিরিক্ত কলা খেলে তা শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, নিশ্চিন্তে কলা খান এইভাবে –

হলুদ রঙের পাকা কলা

পাকা কলা ছোট-বড় সবার জন্য সবদিক থেকে সর্বোত্তম বিকল্প। যে কোনও ধরণের কলার চেয়ে হলুদ কলা বেশি উপকারী। এ ধরণের কলাতে রয়েছে অন্য ফলের চেয়ে বেশী শর্করা এবং পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম এর মত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এই কলা খুব শরীরকে দ্রুত শক্তি দেয়, আমাদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আসলে দেহে পটাশিয়ামের চাহিদা না থাকলে শরীরের সব এনজাইম সক্রিয় থাকে, নার্ভ সতেজ থাকে এবং মাংসপেশিগুলি নরম ও সচল থাকে।

পাকা কলা অনেকেরই পছন্দের। ব্রেকফাস্টে ওটস বা কর্নফ্লেক্সের সাথে অনেকেই কলা খান বা কেউ খান কলার স্মুদি বানিয়ে। ফাইবার সমৃদ্ধ কলা যেমন কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে, হজমে সাহায্য করে তেমনই পেট ভরিয়ে রাখে দীর্ঘক্ষণ। ফলে বার বার খিদে পায় না আর ওজনও বাড়ে না।

বাদামী রঙের কলা

দীর্ঘক্ষণ খোলা ছাড়িয়ে কলা রাখলে তা নত্ম হতে শুরু করে এবং এর উপরের স্তরটি বাদামী হয়ে যায়। একেই বাদামী কলা বলা হয়। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, হলুদ কলাতে ৬.৩৫ গ্রাম স্টার্চ থাকে যেখানে বাদামী কলায় স্টার্চের পরিমাণ এসে দাঁড়ায় ০.৪৫ গ্রামে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, বাদামী কলা ডায়াবিটিস রোগীদের জন্যও ক্ষতিকারক নয়। এছাড়া কলায় শর্করার পরিমাণ বেশি থাকলেও, উচ্চ মাত্রায় ফাইবার থাকে যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেই থাকে। 

ওজন কমানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকারী সবুজ কলা

সবুজ কলা কম মিষ্টি হয় তাই এতে পাকা কলা বা বাদামী কলার তুলনায় শর্করার মাত্রা কম থাকে। সবুজ কলার স্বাস্থ্য উপকারিতার তালিকা বেশ দীর্ঘ। এতে পেক্টিন এর মত বেশ কিছু উপাদান থাকে যা পাচন তন্ত্রের কার্যকারীতা বৃদ্ধি করে, পাকস্থলীতে উপকারী ব্যক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে যা খাদ্য হজমে সাহায্য করে। এছাড়াও, সবুজ কলাতে ভিটামিন বি-6, ভিটামিন-সি, পটাশিয়াম সহ অনেক পুষ্টি উপাদান থাকে। এছাড়াও, এতে থাকা প্রতিরোধী স্টার্চ সহজে ভেঙে যায় না, তাই দীর্ঘক্ষন পেট ভরা অনুভূত হয়। কম ক্যালোরি থাকার জন্য, বেশিরভাগ ডায়েটেশিয়ানরাই ওজন কমানোর জন্য সবুজ কলা খাবার পরামর্শ দেন।   

ডায়েটেশিয়ানরা কলাকে স্বাস্থ্যকর কার্বস বলে থাকেন। তাই, যারা জিম করেন তারা ব্রেকফাস্টে কলা খেলে বেশ উপকার পাবেন। ব্যয়ামের আগে বা পরে কলা খেয়ে পেট ভরাতে পারেন অথবা কলা দিয়ে বানাতে পারেন বিশেষ কিছু রেসিপি যেমন – কলার স্যালাড, স্মুদি, মিল্কশেক, কলার এই বিশেষ ধরণের কেক, বিস্কুট বা চিপস।

এছাড়াও, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম এর মত পুষ্টিকর খনিজ উপাদান উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, ভিটামিন বি ও সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শুধু ভিতর থেকেই নয়, কলা আপনার বাইরের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করবে।  তাই, যারা কলা খেতে ভালবাসেন, খাবারের তালিকায় অবশ্যই কলা রাখুন।

Related posts