প্রেম নেই তবুও জোর করে টিকিয়ে রাখছেন সম্পর্ক? ভুল করছেন!

জোর করে ভালবাসাহীন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখছেন? ভুল করছেন!

প্রেমে পড়তে কোনো বাধা নেই। আবেগ, ভালো লাগা সর্বোপরি ভালোবাসা সমাজের কোনোরকম বিধিনিষেধ মানে না কিছুই। তবুও প্রেমের পথে চলতে চলতে হঠাত প্রেমের এত সুর, এত গান আর ভাল লাগে না কিছুই। জোর করে সম্পর্ক বাঁচিয়ে চলেন দুই মানুষ আর মনে মনে ভাবেন কেন এমন হল। জানেন কেন এমন হয়?

কিছু সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায় না চাইতেই। ধরুন আপনাকে কারোর ভালো লাগে এবং সে তা জানাল, এবং আপনিও তার প্রতি নিজের ফিলিংসের ব্যপারে ভালভাবে না ভেবে যদি তার প্রেম প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান তবে মস্ত বড় ভুল করবেন। আবার, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে প্রেম একটা উপলক্ষ্য মাত্র, শুধুমাত্র সিঙ্গেল থাকতে চান না এই ভেবেই কারোর সাথে মিথ্যে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তারা, অনেকক্ষেত্রেই এরকম সম্পর্ক মনের পক্ষে বিষাক্ত হয়ে ওঠে। মনের ওপর জোর করে যেমন সম্পর্ক তৈরি করা যায় না, তেমনই জেদের বসে বা লাভ-ক্ষতির হিসেব কষে তা টিকিয়েও রাখা যায় না।

জেনে নিন, কখন, কেন এবং কীভাবে বেরিয়ে আসবেন এইরকম সম্পর্ক থেকে – 

আবেগপ্রবণ হয়ে সম্পর্ক বজায় রাখা যায় না

অনেকেই আছেন যারা সঙ্গীর ভুলগুলো বুঝতে পেরেও চুপ থাকেন ঝামেলা অশান্তির ভয়ে।এটা কখনও সুস্থ সম্পর্ক হতে পারে না। যে মানুষ আপনার উপযুক্ত নয়, তার সাথে সারাজীবন থাকার চেষ্টা করা বা তার জন্য সময় নষ্ট না করাই ভাল। এমন সম্পর্ক থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেরিয়ে আসুন এবং নিজের মত ভাল থাকুন। 

যদি বারবার আঘাত পান সঙ্গীর থেকে

আপনাকে যে ভালোবাসবে তিনি কখনোই জেনেশুনে আপনাকে আঘাত দেবেন না।  ভালোবাসা থাকলে যতোই ঝড়ঝাপটা আসুক না কেন, আপনার সঙ্গী আপনার পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে সকল পরিস্থিতিতেই। সাথে পারস্পরিক বোঝাপড়াটাও জরুরি। সম্পর্ক কারোর একার নয়, তাই দুজনকেই মানিয়ে চলতে হয়। তাই, কোনও সম্পর্কে যদি এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ক্রমাগত দোষারোপ করে যায়, আঘাত করে বারবার, পারস্পরিক সন্মানটুকুও না থাকে আর সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কোনো মানেই হয় না।

যদি আপনাকে কোনো বিষয়ে জোর করা হয়

অনেক সময় সম্পর্কে থাকা দুই মানুষের মধ্যে মতের পার্থক্য হতেই পারে, তাদের ভাবনা-চিন্তার পরিবর্তন হয় সময়ের সাথে সাথে। এরকম পরিস্থিতিতে যদি আপনাকে কোনো বিষয় মেনে নিতে বাধ্য করা হয় বা জোর করে কোনো সিদ্ধান্ত আপনার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে সম্পর্কটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যপারে আপনার আরেকবার ভেবে দেখা উচিত।

সম্পর্কে যদি সন্দেহ দানা বাঁধে

সম্পর্কে যদি এরকম পরিস্থিতি আসে, যখন পরস্পরকে সন্দেহ করা, দোষারোপ করাই সম্পর্কের মূল উদ্দেশ্যে হয়ে গিয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই দুই মানুষের মধ্যে আর যাই থাক ভালোবাসা নেই বললেই চলে। যেটুকু থাকে তাহল মোহ আর অভ্যাস। এক্ষেত্রে পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাওয়াই দুজনের জন্যই ভাল।

সবাইকে ভালোবাসা যায় না

যদি ইতিমধ্যে বুঝতে পেরে থাকেন যে আপনার সঙ্গীকে আপনি আর ভালোবাসতে পারছেন না কিংবা তার সাথে ভবিষ্যতে ভাল থাকা সম্ভব নয় তাহলে আর সময় নষ্ট না করে বেরিয়ে আসুন। এতে লজ্জার কিছু নেই, পার্টনারকে বুঝিয়ে বলুন যে জোর করে ভালোবাসা যায় না।

আসলে, ভালো লাগা হল তাৎক্ষনিক, হঠাৎ একটা ফুল পছন্দ হল তাকে নিয়ে এসে ঘরে সাজিয়ে রাখলেন, দু দিন পর ফুলটি শুকিয়ে বর্ন ও গন্ধহীন হয়ে গেলে তাকে ছুড়ে ফেলে দিলেন এরম একটা ব্যপার। আর ভালোবাসা হচ্ছে সারাজীবনের। ফুল গাছটির যত্ন করে সময় নিয়ে পরিচর্যা করাটা হল ভালোবাসা। সম্পর্কে ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার জন্য একে অপরকে সম্মান করা, পারস্পারিক বোঝাপড়া, উভয় পক্ষের সমঝোতা ও মানিয়ে নেওয়ার প্রবণতা একান্ত জরুরী। লাভক্ষতির হিসেব নিকেষ কষতে বসলে প্রেম থাকবে না মোটেই। একে অপরকে ভালোবেসে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে দুপক্ষের মনের মিল থাকাটা আবশ্যক। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে যাবার জন্য একপক্ষের সামান্য অমিলই যথেষ্ট যদি না প্রেম থাকে মনের গভীরে। সম্পর্ক ভেঙে গেলে খারাপ লাগা, মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রেম ছাড়া কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার যতোই চেষ্টা করুন না কেন, একসময় তা ভাঙবেই। যে কোনো রকম সম্পর্ক ভাঙার অভিজ্ঞতাই খারাপ। জীবনে এক গুরুতপূর্ন স্থানে ছিল যে মানুষটা তাকে বাদ দিয়ে দেওয়াটা প্রিয় কিছু হারিয়ে ফেলার মত কষ্টকর মনে হলেও, নিজের ক্ষতি হচ্ছে বুঝতে পারলে সে সম্পর্ক থেকে সরে আসাই শ্রেয়।

Related posts